প্রচ্ছদলাইফস্টাইলনিত্যদিনের যেসব ছোট ভুলে ক্ষতি হচ্ছে চোখের ও দৃষ্টিশক্তির

নিত্যদিনের যেসব ছোট ভুলে ক্ষতি হচ্ছে চোখের ও দৃষ্টিশক্তির

মানব চোখ একটি ইন্দ্রিয় অঙ্গ, সংবেদনশীল স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, যা দৃশ্যমান আলোতে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং আমাদেরকে জিনিস দেখা, আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সার্কাডীয় ছন্দ বজায় রাখা সহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে চাক্ষুষ তথ্য ব্যবহার করতে দেয়। চোখকে একটি জীবন্ত অপটিক্যাল ডিভাইস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

চোখ শরীরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঙ্গ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখ নিয়ে শুরু হয় দুর্ভোগ। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে কম বয়সেও চোখ নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। কাজের চাপ, ব্যস্ততা— সব মিলিয়ে ব্যাঘাত ঘটে ঘুমের। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে বিশ্রাম পায় না চোখও। অথচ যত চাপ চোখের উপরেই। অফিসে ল্যাপটপে দীর্ঘ ক্ষণ কাজ হোক কিংবা বাড়ি ফিরে নেটফ্লিক্সে ফিল্ম দেখা— চোখের বিশ্রাম তেমন করে হয় না বললেই চলে। কম বয়সের এই অভ্যাসের ফলে বার্ধক্যে চোখে দেখা দেয় নানা রকম সমস্যা। তাই শুরু থেকেই চোখের খেয়াল রাখা জরুরি। চোখের যত্ন নেওয়া যে খুব কঠিন ব্যাপার, তা কিন্তু নয়। একটু সতর্ক থাকলেই ভাল থাকবে চোখ।

১) চিকিত্সকরা জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে গেলে, সারাদিনে প্রচুর পরিমানে জল খাওয়া প্রয়োজন। রোজ অন্তত ৬ থেকে ৮ গ্লাস জল খেতে হবে। তার ফলে একদিকে যেমন চোখ পরিষ্কার এবং সুস্থ থাকবে, তেমনই ডিহাইড্রেশনেরও চিন্তা থাকবে না।

২) প্রত্যেক দিনের ডায়েটে তাজা ফল এবং সবজি রাখতে হবে। ফল এবং সবজি চোখকে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা করে। যে সমস্ত খাবারে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস রয়েছে যেমন,  বিভিন্ন বেরি খেতে হবে।

৩) একটানা অনেকক্ষণ ডিজিট্যাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চলবে না। মাঝে মাঝে স্ক্রিন থেকে চোখ সরান। প্রতি ২০ মিনিট অন্তর কিছুক্ষণের জন্য কম্পিউটার, মোবাইল, টিভি স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে রাখুন।

৪) চোখ ভালো রাখতে ধূমপান করা বন্ধ করতে হবে।

৫) অতিরিক্ত রোদে বেরোনো চোখের জন্য ভাল নয়। সূর্যের আলো সরাসরি যাতে চোখে বেশিক্ষণ না পড়ে, তার জন্য কালো রোদচশমা পরে নেওয়া যেতে পারে। খুব চড়া রোদে খালি চোখে বেরোবেন না। রোদে বেরোলে ইউভি প্রোটেকশনযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করুন। যাতে সূর্যের প্রখর তাপ চোখে লাগতে না পারে।

৬) এখন সর্বক্ষণ টিভি বা কম্পিউটারের পর্দায় চোখ থাকে অধিকাংশের। কিন্তু সেই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে চোখের কথা ভেবে। না হলে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যদি টানা কম্পিউটারে কাজ করতে হয়, তবে পর্দার সঙ্গে চোখের যেন থাকে যথেষ্ট দূরত্ব।

৭) শরীর সুস্থ রাখতে যেমন নিয়মিত শরীরচর্চার প্রয়োজন, তেমনই চোখ ভাল রাখতেও করতে হবে চোখের ব্যায়াম। এই ক্ষেত্রে মেনে চলতে পারেন ২০-২০ নিয়ম। এই নিয়ম অনুসারে কুড়ি মিনিট একটানা পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার পর অন্তত কুড়ি সেকেন্ড কুড়ি ফুট দূরত্বের কোনও বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। পাশাপাশি, বার বার চোখের পলক ফেলাও জরুরি।

৮) নিয়মিত যাঁরা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করেন, তাঁদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। পাশাপাশি, এখন বিশেষ ধরনের চশমা পাওয়া যায় যা বৈদ্যুতিন পর্দা থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে। প্রয়োজনে পরতে হবে নীল ও অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক চশমা।

নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করান

আপনার চোখ সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে কিনা তা শুধুমাত্র একজন চক্ষু চিকিৎসকই তথ্য দিতে পারেন। তাই চোখ ভালো রাখতে হলে নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে চেক আপ করানো উচিত।

চোখ ভালো রাখতে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন

চোখ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, তাই তাদের চিকিৎসা ও যত্নের জন্য একজন ভালো চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। দেশে অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যারা সারা বিশ্বে চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেশকে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছেন।

প্রসাধনীর ব্যবহার

প্রসাধনী চোখের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত প্রসাধনী চোখে ব্যবহার করলে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস, ব্লেফারাইটিস, স্টাই ইত্যাদি রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

ধুলো-ময়লা

প্রতিদিন কাজের শেষে চোখ ঠান্ডা ও পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মি চোখের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই রোদে বেরোলে অবশ্যই সানগ্লাস পরা উচিত। যাঁদের এমনিতেই চশমা পরতে হয়, তাঁদের ফটোক্রোমেটিক লেন্স ব্যবহার করা আরামদায়ক হবে। চোখ ভালো রাখতে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠান্ডা ও পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ভালোভাবে ধুয়ে ঘুমানো শ্রেয়।

বিডিজবস.লিঙ্ক'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সর্বশেষ